শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে চরম অব্যবস্থাপনা

আজকের শরীয়তপুর প্রতিবেদক:

 

শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৩১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেলেও লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক জমিও এখন পর্যন্ত বুঝে পায়নি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। ফলে ৬ বছর আগে শুরু হওয়া ৩৫ কিলোমিটারের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে আছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে অনুমোদিত এই প্রকল্পে ৯৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা ছিল। অথচ মাত্র ৪৯ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করতেই বরাদ্দের প্রায় সবটুকু অর্থ শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে হাতে আছে মাত্র ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, যেখানে বাকি ৪৬ হেক্টর জমি পেতে প্রয়োজন আরও অন্তত ৩০০ কোটি টাকা।

প্রকল্পের ধীরগতির কারণে ৩৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে গত পাঁচ বছরে মাত্র ৬ কিলোমিটার নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। জমি বুঝিয়ে না পাওয়ায় বাকি ২৯ কিলোমিটার অংশে ঠিকাদাররা কাজ শুরু করতে পারছেন না। বারবার মেয়াদ বাড়িয়ে এবং দরপত্র আহ্বান করেও কোনো সুরাহা করতে পারেনি সওজ বিভাগ।

অধিগ্রহণের গেরোয় পড়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় জমির মালিকেরা। পাঁচ বছর আগে নোটিশ পেলেও তারা ক্ষতিপূরণ পাননি, আবার বসতভিটা বা দোকানঘর মেরামত কিংবা বিক্রিও করতে পারছেন না। ভেদরগঞ্জ ও সদর উপজেলার অনেক পরিবার জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের দর অনুযায়ী নির্মাণব্যয় ধরা হলেও বর্তমানে উপকরণের দাম ৩০-৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে পুরনো দরে কাজ করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন ঠিকাদাররা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন পুরো ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংশোধনের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সওজ শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন স্বীকার করেছেন যে, জমি অধিগ্রহণের অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানিয়েছেন, বিভাগীয় পর্যায়ে আলোচনার পর এই সংকটের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Facebook Comments

About T. M. Golam Mostafa

Check Also

শরীয়তপুরের জাজিরায় বোমা বিস্ফোরণে আহত আরও একজনের মৃত্যু

আজকের শরীয়তপুর প্রতিবেদক:   শরীয়তপুরের জাজিরা থানাধীন চেরাগ আলী বেপারী কান্দি গ্রামে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় …

কপি না করার জন্য ধন্যবাদ।