আজকের শরীয়তপুর প্রতিবেদক:
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জের সখিপুরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে খরশু আলম সরদার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়টির (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনাটি গত বুধবার শরীয়তপুরের সখিপুর থানার চরসেনসাস ইউনিয়নের ১৪৬ নং চোকদার কান্দি নিজাম উদ্দিন মোল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরসেনসাস ইউনিয়নে চোকদার কান্দি এলাকায় ২০১৫ সালে ৩৫ শতাংশ জমির উপর নির্মিত হয় ১৪৬ নং চোকদার কান্দি নিজাম উদ্দিন মোল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মোট জমির ৩১ শতাংশ জমি স্কুল ভবন, মাঠ ও ৪ শতাংশ শিক্ষার্থীদের চলাচলের রাস্তা। জমিটি স্থানীয় মো: জালাল উদ্দিন স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য দান করেন। স্কুলটি হওয়ার পর থেকে চরাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নতির পাশাপাশি কোমলমতি শিশুদের প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠে। ২০১৫ সাথে থেকে সেখানে নিয়মিত স্কুলের কার্যক্রম চলছিলো।

এর আগেও অভিযুক্ত খরশু আলম সরদার স্কুলের ওই জমিটি দখলে নিতে চেষ্টা করে । তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসীর তোপের মুখে পরে সেসময় জমি দখলে নিতে পারি নি অভিযুক্ত খরশু আলম সরদার।
তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্কুলের জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করে বিষয়টি সমাধান করে দেন। এরপর চলতি মাসের গত বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত জমিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি জোরপূর্বক প্রবেশ করে জমি দখল করার লক্ষ্যে স্কুলের মাঠের মাঝামাঝি স্থানে পিলার পুতে সীমানা নির্ধারণ করে আসে। একাধিকবার নিষেধ করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করে স্কুলের ১৮ শতাংশ জমি দখল করে। এছাড়াও স্কুলে শিক্ষার্থীদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেন অভিযুক্তরা। এতে গত পাঁচদিন ধরে স্কুলের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ রয়েছে।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম বলেন, এই স্কুলের জমি দাতা আমার ভাই মো: জালালউদ্দিন। ২০১৫ সালে স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকে জমিটি দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছে খরশু আলম সরদার। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কারণে সেটি দখলে নিতে পারে নি। এরপর গত বৃহস্পতিবার সকালে দলবল নিয়ে স্কুলটির ৩৫ শতাংশ জমির মধ্যে ১৮ শতাংশ জমি দখল করে নেয়। পাশাপাশি স্কুলে চলাচলের রাস্তাও বন্ধ করে দেয়। আমি বেশ কয়েকবার প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে আমাকে হুমকিধামকি দিচ্ছে। আমি বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।
স্থানীয় আব্দুল কাদির মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। স্কুলের জমি দখল হয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করবো শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে দ্রুত স্কুলের দখল হওয়া জমি ও রাস্তা উদ্ধার করে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু হউক।
এবিষয়ে অভিযুক্ত খরশু আলম সরদার বলেন, আমি স্কুলের জমি দখল করিনি। ওখানে আমার জমি আছে তাই আমি আমার জমি দখলে নিয়েছি। আমি স্কুল কমিটির কাছে জমি পাবো। অভিযোগ দিতেই পারে এটা সমস্যা নাই। আমি বিএনপি নেতা পরিচয় দেইনি। আমি সাধারণ মানুষ, আমাকে সবাই চিনে। আপনি খোঁজখবর নিয়ে দেখেন আমি কে?
এ ব্যাপারে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হক বলেন,”বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আজকের শরীয়তপুর Ajker Shariatpur
Facebook Comments