আশিকুর রহমান হৃদয়:
গ্রামীণ জনপদে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি)। সেই ধারাবাহিকতায় শরীয়তপুরে শেষ হলো ২৮ দিনব্যাপী “ভিডিপি অ্যাডভান্সড কোর্সের (প্রথম ধাপ)” এর প্রশিক্ষণ।
রবিবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জেলা কমান্ড্যান্ট কার্যালয়ে হল রুমে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ তাহসিনা বেগম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “ভিডিপি সদস্যরা ইতিমধ্যেই গ্রামীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়নে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। এই প্রশিক্ষণ শেষে তারা আরও দক্ষ হয়ে উঠেছেন। আমি আশা করি, এই সদস্যরা শুধু আইন-শৃঙ্খলা নয়, সমাজের সব ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে নিজেকে উৎসর্গ করবেন। এ প্রশিক্ষণ সমাজে নিরাপত্তার বলয় জোরদার করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে দেশসেবার প্রতি অনুপ্রাণিত করবে।

গত ২৯ জুলাই শুরু হওয়া ২৮ দিনের এ কোর্সে অংশ নেন ৪৭ জন ভিডিপি সদস্য। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে শারীরিক অনুশীলন, ড্রিল, অস্ত্র চালনা ও তাত্ত্বিক পাঠ। শেখানো হয়- কীভাবে একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডে কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণার্থী শাহীন তালুকদার বলেন, এই কোর্স আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এখন মনে হচ্ছে- আমরা চাইলে গ্রামে অপরাধ দমন, বিরোধ মীমাংসা কিংবা সামাজিক সমস্যা মোকাবেলায় বড় ভূমিকা রাখতে পারব।
জেলা কমান্ড্যান্ট মো. জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনীতে নড়িয়া উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুল রহিম, ভেদরগঞ্জ উপজেলা কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার, সদর উপজেলা কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা ও সদর উপজেলা আনসার ভিডিপির প্রশিক্ষক ফররুখ আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সেরা তিন প্রশিক্ষণার্থীকে পুরস্কৃত করা হয় এবং সবার হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং ভাতাভুক্ত আনসার-ভিডিপির সদস্যদের মাঝে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে ৩০টি সাইকেল বিতরণ করেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শরীয়তপুর জেলা কমান্ড্যান্ট মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রশিক্ষণ শুধু শারীরিক সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ায় না বরং গ্রামীণ সমাজে স্বেচ্ছাসেবার সংস্কৃতিকে জোরদার করে। এ ধরনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যরা স্থানীয়ভাবে জনআস্থা বৃদ্ধি করেন, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে সহায়ক।”
আজকের শরীয়তপুর Ajker Shariatpur
Facebook Comments