শরীয়তপুরে কলেজ ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্চিত-ঘটনার জেরে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

আজকের শরীয়তপুর প্রতিবেদক

শরীয়তপুরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। খাবারের আয়োজনে ছাত্রলীগ নেতাকে দাওয়াত না দেয়ায় ৩৪তম বিসিএসের বাংলা বিভাগের প্রভাষক বিএম সোহেলকে ওই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ ব্যাপারী লাথি ও কিল ঘুষি মেরে লাঞ্ছিত করেন।

কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ জানান, এ ঘটনার প্রতিবাদে কলেজের শিক্ষক পরিষদ বুধবার রাতে একটি জরুরি সভা করেছেন। ওই সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

তিনি বলেন, কলেজ শাখার ছাত্রলীগের যে নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে, সে আমাদের কলেজের শিক্ষার্থী না। তাই তাকে বহিষ্কারও করতে পারছি না। আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে শিক্ষক পরিষদ সভা থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কলেজের শিক্ষকরা জানান, বুধবার শরীয়তপুরের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের স্নাতক সম্মান (অনার্স) চতুর্থ বর্ষের ভাইভা (মৌখিক পরীক্ষা) নেয়া হয়। মৌখিক পরীক্ষা নিতে জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের দু’জন বিশেষজ্ঞ ও একটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন। মৌখিক পরীক্ষা শেষে কলেজের বাংলা বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের জন্য খাবারের ও শুভেচ্ছা জানানোর আয়োজন করা হয়। ওই আয়োজনে ছাত্রলীগের নেতাদের দাওয়াত দেয়া হয়নি। কেন ছাত্রলীগ নেতাদের দাওয়াত দেয়া হয়নি তা জানতে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ ব্যাপারী ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল জমাদ্দার কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীকে নিয়ে বিকাল ৪টার দিকে বাংলা বিভাগে যান। সেখানে গিয়ে বাংলা বিভাগের প্রভাষক বিএম সোহেলকে এ বিষয়ে জবাবদিহি করতে বলেন। তিনি তখন একটি অনলাইন প্রশিক্ষণে ব্যস্ত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় প্রধানের সাথে কথা বলতে বলেন। এ কথা বলার পরই সোহাগ ব্যাপারী শিক্ষক বিএম সোহেলকে লাথি মারেন, মারধর করেন। পরে অন্য শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করেন।

শিক্ষক বিএম সোহেল বলেন, এমন ঘটনায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি। মাথায় কোনো কাজ করছিল না। অন্য শিক্ষকরা এসে বিষয়টি সামাল দিতে থাকেন। ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে শিক্ষককে অপমান অপদস্থ করা ভাবতেও পারছিলাম না। বিষয়টি আমি অধ্যক্ষ স্যারকে ও শিক্ষক পরিষদের নেতাদের জানিয়েছি। তারা যে সিদ্ধান্ত দেবেন তাই মেনে নেবো। এরা ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র নেতা এদের বিচার হবে কিনা তা নিয়েও আমার সন্দেহ আছে।

শরীয়তপুর জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ ব্যাপারী বলেন, এমন অভিযোগ সত্যি নয়। আমি কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হতে পারি। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি আদায়ের জন্য শিক্ষকদের সাথে কঠোর হতে হয়েছে। এ কারণে কোনো শিক্ষক আমার প্রতি বিরক্ত থাকতে পারেন।

শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মহসিন মাদবর বলেন, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ ব্যাপারীর বিরুদ্ধে এক শিক্ষকের সাথে অসদাচরণ করার অভিযোগের কথা শুনেছি। ছাত্রলীগ অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। তাই জরুরি ভিত্তিতে সভা করা হয় এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ শাখার ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন বলেন, এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments

About T. M. Golam Mostafa

Check Also

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ভেদরগঞ্জে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃকিত সন্ধ্যা

আজকের শরীয়তপুর প্রতিবেদক: ৩০ মার্চ সন্ধ্যা ৬ টায় শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ হেডকোয়ার্টার্স পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ …

কপি না করার জন্য ধন্যবাদ।