আব্দুল বারেক ভূইয়াঃ
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট পৌরসভার মহিষকান্দি ও উত্তর হাটুরিয়া গ্রামে প্রায় ৩ হাজার মানুষের বসবাস। তাদের পারাপারের একমাত্র উপায় বাঁশের সাঁকো। বর্ষা এলে বাড়ে দুর্ভোগ। ঝড়বৃষ্টিতে বিপদজনক হয়ে ওঠে সাঁকো পারাপার। চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েদেরও। কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ায়ও পোহাতে হয় দুর্ভোগ। বছরের পর বছর একটি ব্রীজের অপেক্ষা দুই গ্রামবাসীর।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসলে নেতা আর কর্মীদের মুখে শুধু কথার ফুলঝুরি ফোটে। নির্বাচন শেষ হলে তাদের আর সাক্ষাৎ মেলে না। বছরের পর বছর শুধুই আশ্বাস আর আশ্বাস। একটি পাকা ব্রীজের অভাবে এলাকাবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিনিয়ত পারাপার হচ্ছেন। ব্রীজ যে কবে নাগাদ হবে তা কেউ জানেন না।
ব্রীজ না থাকায় যাতায়াত, উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে আনা-নেয়া, অন্যান্য মালামাল বহনে ভোগান্তির শেষ নেই। শুধু বাঁশের একটি সাঁকো দুই গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা। ফলে কৃষিসমৃদ্ধ এই এলাকায় আজও তেমন আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। এখানে একটি ব্রিজ নির্মিত হলে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে।
ইদ্রিস আলী মাদবর, আবুল কালাম সরদার, দেলোয়ার হোসেন, আজিম খা, নুরুন নাহার বেগম, স্কুল ছাত্র নাইম হোসেনসহ কয়েকজন বলেন, খালটি মাত্র ৫০ ফুট। শত বছর যাবত খালটির ওপরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে দুটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত। সংসদ সদস্য, চেয়ারম্যান, মেম্বাররা পাকা ব্রীজের আশ্বাস দিলেও কেউ ব্রীজটি করে দিচ্ছেন না। আমরা চাই একটি ব্রীজ।
গোসাইরহাট পৌর প্রশাসক ও গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, গোসাইরহাট পৌরসভার মহিষকান্দি ও উত্তর হাটুরিয়া গ্রামের মানুষের সাঁকো পারাপারের বিষয়টি আমি জানি। ব্রীজ নির্মাণের জন্য শরীয়তপুরের বিভিন্ন পৌরসভার একটি ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। সেখানে মহিষকান্দির ব্রীজটি তালিকাভুক্ত আছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে ওই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
আজকের শরীয়তপুর Ajker Shariatpur
Facebook Comments