সখিপুরে শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রেম লীলায় ফেঁসে গেলেন অবশেষে বিয়ে, থানায় মামলা

আজকের শরীয়তপুর প্রতিবেদক:
শরীয়তপুরের সখিপুরে প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষিকা খাদিজা আক্তারের প্রেম লীলা জন সম্মখে প্রকাশ, ও বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ সম্প্রচার করা হলে চাপের মুখে ঐ শিক্ষক ও শিক্ষিকা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

২৪ জুলাই শনিবার স্থানীয় শালিসদের যোগসাযোসে তড়িঘরি করে ঘটনাকে ধামা চাপা দেওয়ার জন্য গভীর রাতে তাদের ছয় লক্ষ টাকা দেন মোহর ধার্য করে বিবাহের কাজ সম্পন্ন হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সখিপুর থানা সরকারি প্রথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মহসিন উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বালা, প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন, চরসেননাস ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মনির হোসেন সহ আরো ১০-১২ জন।

এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের অভিমত, যেহেতু থানায় ধর্ষণ মামলা প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় আছে সেহেতু স্থানীয় ভাবে শালিসী মিমাংসা আইন বহিঃভূত কাজ।

শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার ৪৪ নং তারাবুনিয়া মাঝিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম ও ৮০ নং চর সেনসাস মাঝের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা খাদিজা আক্তার এর সঙ্গে যৌন কেলেংকারির অভিযোগ পাওয়া যায়।

সরোজমিনে গিয়ে জানা যায় গত ২২ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত দশ টার দিকে তিন সন্তানের জনক প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম তার স্ত্রীর অনুপুস্থিতিতে ৮০ নং চর সেনসাস মাঝের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা খাদিজা আক্তার কে পূর্বের প্রেম ঘটিত সম্পর্কের সুবাদে ঈদের দাওয়াত দিয়ে ডেকে এনে একান্ত সম্পর্কে জড়ান। বিষয়টি এলাকার লোকজন আঁচ করতে পেরে তাদের কে আটক করেন।

এ সময় খাদিজা বলেন, আমি বিধবা আজাহারুল ইসলাম আমাকে নানা ভাবে ফুসলিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আমার সাথে অবেধ দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে আমাকে ভোগ করে আসছেন। ইতো মধ্যেই সে যখন তখন আমাকে নানা ভাবে ভোগ করেছে। আমি বিয়ের কথা বললে সে আমাকে নানা ভাবে এড়িয়ে চলেন। আজকের ঘাটনাটি পূর্বের ঘটনার ধারাবাহিকতা।
বিষয়টি সম্পর্কে সহকারী শিক্ষিকা খাদিজা আক্তার সখিপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ৯ (১) তৎসহ দন্ডবিধি ৫০৬ ধারায় ২৪ জুলাই একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নাম্বার ০২।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান হাওলাদার ‘আজকের শরীয়তপুর’কে বলেন, ৮০ নং চর সেনসাস মাঝের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা খাদিজা আক্তার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ৯ (১) তৎসহ দন্ডবিধি ৫০৬ ধারায় ২৪ জুলাই একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা টি তদন্তনাধীন রয়েছে এবং আসামী ধরার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ‘আজকের শরীয়তপুর’ কে বলেন, আমি ডিজি মহোদয়েরে সাথে এ বিষয়ে আলাপ করেছি, এরা আমার ডিপার্টমেন্টকে কলংকিত করেছে। আমি এ বিষয়ের একটি প্রতিবেদন ডিজি মহোদয়ের নিকট পাঠিয়ে দিব। তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments

About T. M. Golam Mostafa

Check Also

শরীয়তপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের অবস্থান কর্মসূচী

আজকের শরীয়তপুর ডেস্কঃ শরীয়তপুরে সাংবাদিক রোকনুজ্জামান পারভেজের উপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে …