ভেদরগঞ্জ উপজেলা মৎস অফিসের মৎস লীফদের অনিয়ম ও দুর্নীতি

স্টাফ রিপোর্টার:
মা ইলিশ ও জাটকা রাক্ষায় সরকার যখন তৎপর তখন কিছু অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ীরা মৎস অফিসের কিছু অসাধুচক্রকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে অবাধে চালাচ্ছে মাছ ধরার কার্যক্রম। এমনই এক অভিযোগ পাওয়া গেছে ভেদরগঞ্জ উপজেলা মৎস অফিসের কিছু অসাধু মৎস লীফদের বিরুদ্ধে।

১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ আবার ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নদীতে ইলিশের অভয়াশ্রম এরপর ১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ২৩ সেন্টিমিটারের ছোট ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। অথচ এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কিছু জেলে এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা মাছ ধরা ও বিক্রী করার কার্যক্রম অবাধে চালাচ্ছে প্রকাশ্যে। নেই কোন আইনী তৎপরতা। জনমনে প্রশ্ম দেখা দিয়েছে এসব জেলে ও অসাধু ব্যবসায়ীরা কোথা থেকে এত সাহস পাচ্ছে ?

স্থানীয়রা জানান, গত মৌসুম থেকেই ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে অভিযান চোখে পড়ার মতো। এবার মৎস্য কর্মকর্তাদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই জেলেদের আটক করে নিয়ে যেতো তারা। এবার টাকার দিলেই ছেড়ে দেওয়া হয় নৌকা ও জেলেদের।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা মৎস লীফ দুলালের লেবার মো: মুসা আলম শেখ বলেন, আমি লেবার হিসেবে কাজ করতাম অভিযানের সময় আমায় বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেত। গত ১১ ফেব্রয়ারী দুলাল আমাকে নিয়ে ঘড়িষারে একটি স্থানীয় হোটেলে যায় ঐ হোটেলে বসে ১৬ টি নৌকা দিয়ে মৎস অফিসকে ম্যানেজ করে নদীতে অবাধে মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ১ লক্ষ টাকা চায়। ঐ ১৬ জেলের পক্ষ থেকে সুরেশ^রের আড়ৎদার মো: আজিজুল মোল্লা মৎস লীপ দুলালকে বলেন ১০/১২ দিন মাছ ধরার জন্য ১ লক্ষ টাকা বেশি হয়ে যায়। আজিজুল মোল্লা তাকে ৯৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে এবং দুলাল রাজি হয়ে যায় এবং ৯৬ হাজার টাকা নেয়। পরে জেলেরা অবাধে মাছ ধরার কার্যক্রম চালিয়ে যায়।

উত্তর তারাবুনিয়া নম কান্দির জেলে মো: শাহজালাল ফকির বলেন, আমরা ১৮ জন জেলে মৎস অফিসকে ম্যানেজ করার জন্য মৎস লীফ দুলালকে ১৮ টি নৌকা বাবদ ১ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা দিয়ে পদ্মা নদীতে জালবাই। অপর দিকে ইউসুফ বকাউল বলেন আমরা ১৫ জন জেলে জাগ পেতে নদীতে মাছ ধরি। মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য দুলালের মাধ্যমে মৎস অফিসকে ৭০ হাজার টাকা দেই। এসময় উপস্থিত ছিল মৎস স্পীড বোর্ড চালক শাহজালাল।

মৎস লীফ দুলালের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে বলে, আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না ।

এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযানের সময় আমার একার পক্ষে সব কিছু মনিটরিং করা সম্ভব হয় না বিধায় বিভিন্ন জনকে নিয়ে যাই। মৎস লীফ শুধু দুলাল নয় আরো অনেকেই আছে। আমি শুধু দুলালকেই নিয়ে যাইনা এক এক সময় এক এক জনকে নিয়ে যাই। কে বা কারা আমার কথা বলে টাকা নিয়েছে আমি জানিনা তবে তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।

Facebook Comments

About T. M. Golam Mostafa

Check Also

ভেদরগঞ্জে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তা দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী(এসওডি)-২০১৯ অবহিতকরণ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

নাসির খান: শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তা দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী …