শরীয়তপুর সদর উপজেলা পিআইও এবং পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের যোগসাজোসে অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান কাজে নয়-ছয়

আবদুল বারেক ভূঁইয়া:

শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও পাালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পরস্পর যোগসাজোসে অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান প্রকল্পের কাজে নয়-ছয় চলছে।

সরোজমিনে গিয়ে জান যায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে ২য় পর্যায়ে ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং ইউনিয়নে ৩ টি রাস্তা নির্মাণ ও পুন:নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো হলো আটিপাড়া হাসেম শেখের বাড়ি হতে হজরত আলীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ ও ২ নং ওয়ার্ডের মনসুর পেদার বাড়ি হতে আবুল বাসার কায়েতের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ। প্রকল্পের সর্বমোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ লক্ষ টাকা। উল্লেখিত প্রকল্পের কাজ ২০২০-২১ অর্থ বছরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও দেরীতে কাজ শুরু করার ফলে নির্ধারিত সময়ে তা বাস্তবায়ন না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে । তড়ি-ঘরি করে কাজ সম্পন্ন করতে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে লেবার দিয়ে কাজ সম্পন্ন করার পরিবর্তে অবৈধ ভেকু মেশিন লাগিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এতে শরীয়তপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নজরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ সহায়তা ও ইন্ধন দেয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার হওয়ার কথা থাকলেও পিআইওর আদেশে পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন দেওয়ান কাউকে না জানিয়ে নিজেই প্রকল্পের চেয়ারম্যান হেসেবে কাজ চালাচ্ছেন।

এদিকে এদিকে প্রকল্প এলাকার বিধবা রেহানা বেগম অভিযোগ করেছেন তার বসত ভিটার অর্ধেক দখল করে নেওয়া হয়েছে প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য। পিআইও নজরুল ইসলাম ও আবুল হোসেন দেওয়ান জোর করে রেহানা বেগমের বসত ভিটা দখল করে নেয়ার সময় তিনি বাধা দিতে গেলে তাকে লাঞ্চিত কার হয়। এ সময় রেহানা বেগমের প্রতিবেশী আলমগীর খলিফার স্ত্রী সালমা বেগমকে শারিরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ফিরোজা বেগম জানান, নীতিমালা অনুযায়ী তাকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বাানানোর কথা থাকলেও তিনি কিছুই জানেনা।

সরোজমিনে সাপ্তাহিক রুদ্রকন্ঠ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও ভোরের দর্পণ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এস এম শফিকুল ইসলাম স্বপন সরকার এবং আজকের শরীয়তপুর পত্রিকা ও দৈনিক ভোরের সময় পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি আবদুল বারেক ভূঁইয়া সংবাদ সংগ্রহের জন্য গেলে উপস্থিত পিআইও নজরুল ইসলাম রেগে যান এবং ঘটনা স্থল থেকে সাংবাদিকদের সরে যেতে বলেন।

এসময়  পিআইওর বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

বিষয়টি সম্পর্কে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল হোসেন দেওয়ানের নিকট কিছু জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান।

বিষয়টি শরীযতপুর জেলা ত্রাণ ও পুন:বাসন কর্মকর্তা এবিএম সিরাজুল হককে জানালে তিনি মুঠোফোনে বলেন, সরোজমিনে গমন করে তদন্ত স্বাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments

About T. M. Golam Mostafa

Check Also

আগামীকাল শরীয়তপুরে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ২ টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আবদুল বারেক ভূঁইয়া: মুজিববর্ষ উপলক্ষে আগামীকাল ১০ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায়  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *