সরকারকে বিব্রত করা কাম্য নয়
সম্প্রতি প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে পেশাগত দায়িত্ব পালন কালে খোদ সচিবালয়ে হেনস্থার ঘটনায় সরকার বিব্রত। এ ঘটনায় জড়িতরা আর যাই হোক সরকার বান্ধব হতে পারে না। সরকারকে বিব্রত করার জন্যই এহেন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। হতে পারে রোজিনা ইসলাম পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করছিলো। এ জন্য তাকে ৫ ঘন্টা আটকে রেখে হেনস্থা করার এখতিয়ার কারো নেই। দোষ করলে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এতে সরকারের ভাব মুর্তি উজ্জল হতো। পূর্ব ঘটিত ক্ষোভ থেকে এমনটা করা হয়েছে বলে অনুমান করা যায়।

প্রতিটি দুর্নীতি চিত্র তুলে ধরা মিডিয়া ও মিডিয়া কর্মীদের দায়িত্ব। দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহের অনেক উপায় রয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় গোপনে দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ করা অবৈধ নয়। দুর্নীতিবাজরা চাইলেই দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করবে এমনটি ভাবা সমীচীন হবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নতুন কিছু নয়। ইতোমধ্যে শাহেদ, সাবরিনা সহ ক্রয়, নিয়োগ, অনুমোদন সংক্রান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নানা দুর্নীতির রমরমা খবর জাতির সম্মুখ্যে উপস্থাপিত হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুর্নীতি সরকার ও দুর্নীতি সংক্রন্ত জিরো টলারেন্স নীতির পরিপন্থী। তবুও বার বার উল্লেখিত মন্ত্রণালয়ের দূর্নীতিতে সরকার বিব্রত হচ্ছে। এর সঙ্গে সম্পৃক্তদের হাত শক্তি শালি হলেও সংখ্যায় গুটি কয়েক। এদের কে ছাড় দেয়া মানে উন্নয়ন অগ্রগতি ব্যহত করা। রোজিনা ইসলামের যা হয়েয়ছে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। যা কিছু ঘটনা তা সমাধানের সহজ রাস্তাটাও দুর্নীতি সংশ্লিষ্টরা বাকা করে দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৯৮ বছরের পুরনো বৃটিশ সরকার প্রণীত অফিস সিক্রেট আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। উক্ত আইন এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।এর মাধ্যমে বৃটিশ গোলামির যুগে অনুপ্রবেশ হয়েছে। শুধু গোলামী আইনে মামলাই নয়, জামিনও রুদ্ধ করা হয়েছে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। যা কারো কাম্য ছিলনা। খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে কোন প্রকার সময় ক্ষেপণ না করে দুর্নীতিবাজদের পক্ষ অবলম্বন করে কথা বলতে দেখা গেছে। এ নিয়ে দেশ বিদেশে সরকারের ভাব মুর্তি ব্যাপক ক্ষুন্ন হয়েছে। গুটি কয়েক শক্তিশালি আমলার নেক্কার জনক কর্মে সরকারের বিব্রত হওয়াটাই স্বাভাবিক।
তবে এর লাগাম টেনে ধরতে হবে। তা না পারলে সরকারের সকল অর্জন ম্লান হয়ে যাবে। তাই অচিরেই নিরপেক্ষ তদন্ত করে দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া জরুরি প্রয়োজন।
আজকের শরীয়তপুর Ajker Shariatpur
Facebook Comments