বিশেষ নিবন্ধঃ পদ্মা সেতু এবং বৃহত্তর দক্ষিণবঙ্গের ভবিষ্যৎ

বহু আকাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু; স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশত বছর পার হয়ে গেলেও বৃহত্তর দক্ষিণবঙ্গের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয় নি। কিন্তু পদ্মা সেতু হয়ত সেই অন্ধকারের মাঝে মৃদু আলো। হয়ত অনেকেই আশা করে আছেন যে, এইবার দক্ষিণবঙ্গ কিছুটা আধুনিকতার আলো দেখবে, কিন্তু তার জন্য সুনির্দিষ্ট কোন রূপরেখা আছে কি? হয়তোবা আছে। যাই হোক, যে সকল বিষয়গুলি বৃহত্তর দক্ষিণবঙ্গের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন পরিমার্জন করতে পারে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করা যেতে পারে।

আপাত দৃষ্টিতে বৃহত্তর দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ নদীর শাখা প্রশাখা দ্বারা সুবিন্যস্ত এবং এই শাখাগুলির নামের বৈচিত্র্য অত্যন্ত সুন্দর। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে এসব নদীর শাখা-উপশাখা  গুলির ব্যবস্থাপনা একেবারে অপরিমিত। কারণ হিসেবে যাই বলা হোক না কেন মোটা দাগে এটাই বলা চলে যে, নদীর এই অংশগুলি কর্তৃপক্ষের খুব বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেনি। কেননা, ক্ষেত্রবিশেষে নদীর এই শাখাগুলির নাব্যতা ও নদীর পাড়গুলির যথার্থ ব্যবস্থাপনাও করা হয়নি। অথচ তা করা হলে জল পরিবহন এবং মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন সহায়ক হবে এবং আঞ্চলিক কর্ম সংস্থানের সৃষ্টি করবে।

বাংলাদেশের উজানে ফারাক্কা ও তিস্তা বাঁধের কারণে দেশের অনেক নদী নাব্যতা হারিয়েছে। আর এই কারণেই বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে মাটির লবণাক্ততা অনেক বেশি যা, কিনা এই দুটি বাঁধের কারণে বিগত ৩০ বছরে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। সাগরের পানির লবণের মধ্যে সালফেট, নাইট্রেট, ফসফেট, ক্লোরিন, ফ্লোরিনের মত অনেক রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে তাই তা নদীর অববাহিকার পলিমাটির রাসায়নিক পদার্থ অর্থাৎ বিভিন্ন ধাতুর অক্সাইড গুলোর সাথে বিক্রিয়া করে খুব ধীর গতিতে মাটির বন্ধনি শক্তিকে বিনষ্ট করে। আর এই কারণেই নদীর পলিতে গড়ে ওঠা চরের ভাঙ্গন হয় সামঞ্জস্যহীনভাবে। যদিও প্রমত্তা পদ্মার করাল গ্রাস বহু চর বিলিন করেছে কিন্তু ফারাক্কা ও তিস্তা বাঁধের কুপ্রভাব বাংলাদেশে চরমভাবে দৃশ্যমান। যদিও ফারাক্কা ও তিস্তা বাঁধ আন্তর্জাতিক নদী আইনের চরম লঙ্ঘন, এছাড়াও বাংলাদেশের জলবায়ুর উপর এই বাঁধ দুটির প্রভাব খুবই মারাত্মক এবং প্রাণ প্রকৃতি ও পরিবেশ বিনাশী।

যাই হোক পদ্মা সেতুর স্থাপনা কিছুটা হলেও নদীর পানি প্রবাহের গতি প্রকৃতির উপর প্রভাব ফেলবে, তাই কোথাও কোথাও নতুন করে চর জেগে উঠতে পারে, অবশ্য তার ব্যবস্থাপনাও সম্ভব। পদ্মা সেতু অবশ্যই দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ মাধ্যমকে পরিবর্তিত করবে, কিন্তু সে পরিবর্তন কতটা জনমুখি হবে তা অবশ্যই আলোচনার উর্ধ্বে নয়।

পেশাগত কারণে যখন শরীয়তপুরে আসি তখন অত্র এলাকার মাটির বৈশিষ্ট্য, আবহাওয়া বেশ কিছু নিয়েই শুধু নয়, এলাকার মানুষদের ব্যাপারেও বুঝতে শুরু করি। যে বিষয়টি খুবই উদ্বিগ্ন করে তা হল এলাকার মানুষের বিদেশে গমনের প্রবল মানসিকতা রয়েছে; অবশ্য এসবের জন্য বাংলাদেশের প্রান্তিক রাজনীতিও কিছুটা দায়ী। এই অঞ্চলের মানুষের বর্তমান যে আর্থসামাজিক অবস্থা তাতে করে তাঁদের মধ্যে কৃষি নির্ভরতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে বলা যায়, এলাকার মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বেশির ভাগ মানুষের বিদেশ গমন প্রীতি এবং কৃষিশ্রম বিমুখতা । কৃষিশ্রম বিমুখতার মুল কারণ হল; কৃষি সহায়ক পণ্য যেমন সার, কীটনাশকের বিপণনে মধ্যস্বত্বভোগের  জন্য এগুলোর বেপরোয়া মূল্য বৃদ্ধি (সরকার কর্তৃক ধার্যকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য হেতু) কৃষিজাত পণ্য বিপণনে মধ্যস্বত্বভোগ, যার কারণে কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে কৃষক বঞ্চিত হচ্ছেন, ফলে এলাকার মানুষের জীবন ধারনের মাধ্যম হিসেবে বিদেশ গমন প্রীতি বাড়ছে। এত কিছুর পরেও এখনও এই এলাকাকে সমৃদ্ধ করার জন্য শুধু যথার্থ পরিকল্পনার এবং তার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। কিভাবে সেই ঘটনাগুলো এলাকার মানুষকে সমৃদ্ধ করবে তার স্বল্প পরিসরের দিক নির্দেশনা পরের অণুচ্ছেদগুলোতে বর্ণনা করা হল।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অনেক মালিকানা দক্ষিণাঞ্চলের বড় ব্যাবসায়ীদের, কিন্তু দেশের পোশাক শিল্পের কারণে রাজধানী ঢাকাতে যে জনগনের চাপ তা ঢাকাকে খুব বাসযোগ্য বলে নির্দেশ করে না। আবার এটাও  অনস্বীকার্য যে পুরো পাশ্চাত্যের পোশাক শিল্পের প্রক্রিয়াকরণ এবং পরিমার্জনের বেশির ভাগই আমাদের বাংলাদেশকেন্দ্রীক। কিন্তু রাজধানী ঢাকাতে সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এত  সহজলভ্য যে, ঢাকা যেন পরিপাটি করে সাজানো মুখ আর দেহের বাকি অংশ অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রান্তিক জেলা উপজেলা সমুহ এই সকল নাগরিক সুবিধাদির দিক দিয়ে খুবই রুগ্ন, অবশ্য বর্তমানে এই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। যেমন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি এলাকার পারিপার্শ্বিকতার পরিবর্তন করে তেমনি কোন কোন এলাকাতে কলকারখানা হলে তা এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সহায়ক হয়। লক্ষণীয় যে বরিশালের দুই পাশে তিনটি সমুদ্র বন্দর রয়েছে, তাই এই এলাকাকে সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রার সাথে সম্পৃক্ত করতে গেলে এবং বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে খুলনা – বরিশাল – চট্টগ্রাম জেলাগুলির ভিতরে সুবিন্যাস্ত করতে পারলে পরিবহনজনিত খরচ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। আর এতদসঙ্গে,  গার্মেন্টসের বিপুল জনগোষ্ঠীর যে এলাকা ভিত্তিক স্থানান্তর অর্থাৎ ঢাকা থেকে খুলনা – বরিশাল – চট্টগ্রাম এ, তাতে করে ঢাকা একটু হলেও স্বস্তি পাবে এবং একে আমরা বিকেন্দ্রীকরণ বলতে পারি। আর এর জন্য প্রয়োজন হবে বিশেষ কিছু নদীর নাব্যতা বাড়ানো যাতে করে সুন্দরবনের কোন ক্ষতি না করেই, গার্মেন্টস শিল্পের পণ্য পরিবহণ করা সম্ভব হয়। অবশ্য গার্মেন্টস শিল্প প্রক্রিয়াকরণে, নদীর নাব্যতা ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানে এবং শিল্প পণ্য পরিবহন ইত্যাদিতে যে কর্মক্ষেত্রের সৃষ্টি হবে তা একবার শুরু হলে তার ব্যাপকতা উপলব্ধি করা সম্ভব হবে। নদীর নাব্যতা ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধায়নে বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং এলজিইডি সততার সাথে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবেন বলে আশা করা যায়।

এছাড়াও, অত্র এলাকায় যে পরিমাণ লবণাক্ততা রয়েছে তা থেকে পরিত্রাণ পেতে এখানে নারিকেল গাছ, গোলপাতা, নদীর পাড়ে ম্যানগ্রোভ জাতীয় বৃক্ষ এবং মাটির লবণাক্ততাকে পুষ্টি উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে এমন বৃক্ষাদি রোপণ করা যেতে পারে। লক্ষণীয় যে এই চরাঞ্চলে বালি মাটি তে বাদাম জাতীয় ফলের ফলন খুব ভাল হয়, তাই যে সকল এলাকা তে গার্মেন্টস শিল্প বসবে না সে সকল এলাকায় বাদাম জাতীয় ফলের চাষ এলাকার অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এছাড়াও নারিকেল, গোলপাতা এবং অন্যান্য বৃক্ষের উচ্ছিষ্ট থেকে নতুন শিল্পের যেমন কয়ার অর্থাৎ নারিকেলের ছোবড়া পার্টিকেল বোর্ড এবং গৃহস্থালি দ্রব্য সামগ্রী ইত্যাদি তৈরির শিল্প কারখানা করাও সম্ভব হবে। উল্লেখ্য যে, শ্রীলঙ্কার সাগর উপকূলীয় অঞ্চলের আর্থ সামাজিক অবস্থা শুধু মাত্র নারিকেল গাছের কারণেই একসময়ে পরিবর্তন ও উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও এ সম্পর্কিত অন্যান্য গবেষণাতেও একই তথ্য উঠে এসেছে।

পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কর্ম পরিধির দৃশ্যপট যে ভাবে পরিবর্তন হবে তাতে করে আরও কিছু বিষয় অবশ্যই বিবেচনার মধ্যে নিতে হবে। কেননা পদ্মা সেতু যে সকল এলাকা কে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করবে সেগুলো হল মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর এবং ফরিদপুর জেলা। ইতিমধ্যে এই জেলাগুলির যোগাযোগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে; বিশেষ করে স্থল যোগাযোগের উন্নতি যা হয়েছে তা যথেষ্টই জনবান্ধব। সেক্ষেত্রে বলা যায় যে এই এলাকা গুলির অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচক পরিবর্তণ, অন্যান্য প্রান্তিক এলাকার চেয়ে কিছুটা দ্রুত গতির হবে। কিন্তু লক্ষণীয় যে, অন্যান্য এলাকা সমুহ, যারা এই সরাসরি যোগাযোগের সুবিধা প্রাপ্ত হবে না, সেগুলোর অর্থনৈতিক পরিবর্তন কিভাবে সঙ্ঘটিত হবে? ওই সকল এলাকার জনগোষ্ঠী কিভাবে পদ্মা সেতু থেকে উপকৃত হবে? প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক এবং সমাধানটাও সহজ নয়। কারণ গুলো নিম্নরূপ;

প্রথমত বলা চলে, রাস্তা এবং রেল পথের উন্নতি হলে নদী পরিবহণে মনোযোগ প্রদানের কোন স্থান রয়েছে কি? বস্তুত, অবশ্যই রয়েছে, কেননা একটি দেশের যোগাযোগ যদি শুধু রাস্তা এবং রেল পরিবহনের দ্বারা সঙ্ঘটিত হয় তবে তা কেবল দ্বিমাত্রিক ব্যবস্থাপনা এবং এর সুবিধাও সীমিত, কিন্তু যদি নদী যোগাযোগ এর সাথে থাকে তবে তার ব্যাপকতা অনেক এবং তা সুদুরপ্রসারী। তাছাড়া তিল-তিল করে গড়ে ওঠা নদী যোগাযোগ হঠাৎ বিলুপ্ত করে দিলে, এর সাথে সংশ্লিষ্ট জনপদের ওপর যে প্রভাব পড়বে তা ভেবে, এবং পর্যটন এবং অন্যান্য যোগাযোগের সুবিধা জনমুখি করতেই নদী যোগাযোগের ক্ষেত্র কে পূর্বের মতই পরিচর্যা করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, নদী বহুল এলাকা হেতু অত্র এলাকাতে জাহাজ শিল্প এবং তার সাথের সংশ্লিষ্ট জনবল কে কি কর্ম পরিবর্তণ করতে হবে? যদি এই রাস্তা বা ট্রেন যোগাযোগের নতুন সংযুক্তি হয় তবে তা কিভাবে এখানকার জনবলকে সহায়তা করবে? যদি এমন হয় যে ট্রেনের লোকোমটিভ কাজে জাহাজ শিল্পের জনবলের কর্মসংস্থান হবে তবে তা প্রকৌশলগত কারণেই গ্রহণযোগ্য হবে। কেননা নদী যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহণের খরচ অল্প হলেও সময় সাপেক্ষ কিন্তু তার চেয়ে অপেক্ষাকৃত ব্যয়বহুল হচ্ছে ট্রেন এবং রাস্তা দিয়ে পণ্য পরিবহণ। দৃশ্যত, জাহাজ শিল্পের অবলোপন হয়ত হবে না কিন্তু নতুন যোগাযোগের মাধ্যম সৃষ্টির কারণে যেন পূর্বের কর্মসংস্থানের কোন ক্ষতি সাধিত না হয়, তা লক্ষ্য রাখতে হবে, নতুবা তা জনবান্ধব হবে না।

তৃতীয়ত, যে সকল এলাকা সরাসরি পদ্মা সেতুর সুবিধা পাবেনা, সে সকল এলাকার যোগাযোগের অবকাঠামোগত উন্নয়ন যদি সংগঠিত না হয় তবে বৃহত্তর পরিসরে উন্নয়ন সাধিত হবে না। এর জন্য প্রয়োজন হবে নতুন কর্মযজ্ঞের। তাই প্রান্তিক এই অঞ্চলগুলোর সাথে যোগাযোগ সমন্বয়ে নতুন পদক্ষেপ নিতে হবে; যেমন রাস্তাঘাট প্রশস্তকরন, শাখা নদী শাসন এবং ক্ষুদ্রাকৃতি নৌপরিবহণে যথাযথ বাবস্থাপনা। এছাড়াও এলাকার জনগন যে সকল কর্মের সাথে সম্পৃক্ত সে পরিসরে কোন ঘাটতি হওয়া চলবে না, অর্থাৎ মানুষ নতুন কর্মের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করবে কিন্তু পূর্বের কর্ম ত্যাগ করে নয়। তাই এ সকল বিষয়ে নজর দিতে হবে।

পূর্বোক্ত বর্ণনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যখন জনগণের সম্পৃক্ততার মাঝে, তাঁদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা পূর্বক যথার্থ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবেন এবং তা সততা ও নিষ্ঠার সাথে বাস্তবায়ন করবেন তখন তা এই এলাকাকে সমৃদ্ধ থেকে সমৃদ্ধতর করে তুলবে। এছাড়াও আরও যে সম্ভাবনার ক্ষেত্র এখনও এই এলাকাতে সুপ্ত তা হল পর্যটন এলাকা তৈরি করা এবং তার যথার্থ ব্যবস্থাপনা করা। বৃহত্তর দক্ষিণবঙ্গের মানচিত্র পর্যালোচনা করলেই সম্ভাব্য এলাকা যা চিহ্নিত করা গেলে এই বৃহত্তর দক্ষিণবঙ্গে পর্যটন শিল্পের যে ব্যাপ্তি ঘটবে তা এলাকার বিবিধ কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে।

. মোঃ রাশনাল হোসেন, ইমেলঃ hrashnal@gmail.com

Facebook Comments

About Sm Sohage

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *