গাউসুল আযম বাবাভাণ্ডারী (কঃ) ছিলেন অভাবী-দুঃখী-পথহারা মানুষের আশ্রয়স্থল – সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী

টি.এম. গোলাম মোস্তফা:
মহান আল্লাহ্ তা’য়ালা পৃথিবীতে অগণিত নবী রাসুলগণকে (আঃ) প্রেরণ করেছেন মানুষকে সত্য পথে দিকনির্দেশনার জন্য। আমাদের প্রিয় নবিজী (দ) বর্বর, সভ্যতাহীন বিশ্বে সাম্য ও মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি দ্বীনকে পরিপূর্ণ করেছেন আর অলি আল্লাহ্গণ তার প্রতিনিধি হয়ে ইসলামের প্রকৃত দর্শনকে সংরক্ষণ করছেন।
উনবিংশ শতকে, বিশ্বে যখন যুদ্ধ-বিগ্রহ , জোড়-জুলুম, অন্যায়ের রাজত্ব চলছিল, তখন নিপীড়িত অসহায় মানুষ তীর্থের কাকের মত ত্রাণকর্তার পথ চেয়ে অপেক্ষার প্রহর গুণছিলেন। রাতের কালো অমানিশা ভেদ করে, আলোর মশাল হাতে শান্তির দূত হিসেবে শুভাগমন করেছিলেন গাউসুল আযম হযরত সাইয়্যিদ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (কঃ)।
তিনি নিজেকে সৃষ্টির কল্যাণে সমর্পণ করেছিলেন। তাইতো তিনি বলেছেন – “আমি শুধু মানবজাতির জন্য নয়, আল্লাহর আঠারো হাজার মাখলুকাত তথা সকল সৃষ্টির জন্য এসেছি”।
শ্রেণীবিভেদ, সাম্প্রদায়িকতা ও নানারূপ বৈষম্যের বেড়াজালে অসহায় মানুষেরা যখন ক্রমাগত নিষ্পেষিত হচ্ছিল, তখন বাবাভাণ্ডারী ক্বেবলা-এ-আলম (কঃ) এর অসীম প্রেমদরিয়ায় তারা তাদের পিপাসার্ত হৃদয়কে প্রশান্ত করে।
তার কাছে এসে অসহায়, অত্যাচারিতরা তাদের দুঃখ-বঞ্চনার দিনলিপি, ব্যাথা-বেদনার গল্প, আশা-প্রার্থনা নিঃসংকোচে ব্যক্ত করেন। তিনি ছিলেন, মহান আল্লাহর “রহমান” নামের মহত্ত্বের প্রকাশক। তার উসিলায় মহান আল্লাহর রহমতের বারিধারা সৃষ্টিকুলের ওপর বর্ষিত হয়।
বাবাভাণ্ডারী (কঃ) এর কাছে জাতি-ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরিব, ছোট-বড়, উঁচু-নিচুর কোন পার্থক্য ছিল না। সকলেই তার কাছে মহামহিম সৃষ্টিকর্তার পরম যত্নে সৃজিত মানুষ হিসেবে মর্যাদা লাভ করতেন।
তার অনন্য মানবিক গুণাবলী ও আধ্যাত্নিক মাহাত্ম্য অগণিত মানুষকে শুধু ইসলামের সুশীতল ছায়াতলেই আনে নি, বরং অসংখ্য সাধারণ মানুষ অলি আল্লাহ্ তথা আল্লাহর প্রিয় বান্দাতে পরিণত হয়েছেন।
হযরত গাউসুল আযম শাহ্সূফি সাইয়্যিদ আহমদউল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) প্রণীত “তরিক্বায়ে মাইজভাণ্ডারীয়া”কে পরিপূর্ণ, বিকশিত ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে তিনি প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রকৃত দর্শনের স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য শক্ত একটি ভিত্তি তৈরি করেছেন।
তার স্মরণ প্রস্তররূপ হৃদয়কেও পূর্ণ করে পুষ্পের কোমলতায়। তার প্রেরণা ঘুমন্ত মানবাত্মাকে জাগ্রত করে ঈমানী চেতনায়। তিনি খোদার প্রেমকাব্যের মহানায়ক, তিনি রাসুলপ্রেমের উড্ডীন পতাকা। তিনি মা ফাতিমা (আঃ) এর সুশোভিত বাগানের প্রস্ফুটিত গোলাপ, শেরে খোদা মওলা আলি, ইমাম হাসান ও হোসাইন (আঃ) এর গৌরবের শাণিত তরবারি। তার নাম, ভোরের সূর্যের মত সকল অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে দেয়। তার জয়গান তাই সমগ্র বিশ্বজুড়ে। তিনি অগণিত মানুষের প্রাণস্পন্দন, সর্বক্ষণ তার জিকির সঞ্চারিত হয় কোটি আশেকানের রক্তপ্রবাহে।
মহান ২২শে চৈত্র তার পবিত্র ওরশ শরীফে প্রার্থনা এই যে, এমন মহান অলি আল্লাহ্ এর জীবনী অনুসরণ করে, আমরা যেন মহান আল্লাহ্ ও প্রিয় নবিজী (দ) এর সন্তুষ্টি অর্জন এবং ন্যায় ও মানবতা প্রতিষ্ঠায় জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সংগ্রাম করে যেতে পারি।
মহান ২২শে চৈত্র, ইমামুল আউলিয়া, হুজুর গাউসুল আযম, হযরত সাইয়্যিদ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (কঃ) এর পবিত্র ওরশ শরীফ উপলক্ষ্যে এক বিশেষ বার্তায় সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী বাবাভাণ্ডারী ক্বেবলা-এ-আলম (কঃ) এর জীবনীর মৌলিক আদর্শকে তুলে ধরেন। তিনি হযরত গাউসুল আযম শাহ্সূফি সাইয়্যিদ আহমদউল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (কঃ), গাউসুল আযম হযরত সাইয়্যিদ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (কঃ), হুযুর গাউসে জামান, হয়রত সাইয়্যিদ আবুল বশর মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এবং হুযুর গাউসুল ওয়ারা, হযরত সাইয়্যিদ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী
মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এর পবিত্র রওজা শরীফ জিয়ারত ও বিশ্ববাসীর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন।
লাখো আশেকানদের অংশগ্রহণে যথাযোগ্য মর্যাদায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাইজভাণ্ডার শরীফে এ ওরশ শরীফ পালিত হয়েছে। বৈশ্বিক মহামারীর কারণে এ বছর আনুষ্ঠানিকতা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।

 

Facebook Comments

About T. M. Golam Mostafa

Check Also

ইসলামের প্রচার-প্রসার ও উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান

আজকের শরীয়তপুুর ডেস্ক: ইসলামের প্রচার-প্রসারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *