ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন : মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ইসিকে সহযোগিতার নির্দেশনা

আজকের শরীয়তপুর প্রতিবেদক:

প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্নের জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সহযোগিতা করতে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

নির্বাচন কমিশনের আধা-সরকারি পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা দেয়া এবং ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’-এর বিধান অনুসরণ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১১ এপ্রিল প্রথম ধাপে ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০’ অনুসারে সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার/জেলা নির্বাচন অফিসাররা উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ করবেন। এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূ্র্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং কর্তব্য পালনে কোনো ধরনের শৈথিল্য না দেখান, সেই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি দফতর, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং এবং পোলিং অফিসার নিয়োগ করা হবে। বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি এবং সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্বাচনের কাজে প্রত্যক্ষভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থার স্থাপনা, অঙ্গণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে এবং ওই সব প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র নির্বাচনে ব্যবহৃত হবে।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য জারি করা ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ এর বিধানাবলির প্রতি সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো। ওই আইনের ৪ ধারায় নির্বাচন কর্মকর্তার চাকরি ও নিয়ন্ত্রণ এবং ৫ ও ৬ ধারায় যথাক্রমে শৃঙ্খলামূলক বিধানাবলি উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব অর্পিত হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারী ব্যক্তি ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ এর ২ (ঘ) ধারায় বর্ণিত সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘নির্বাচন কর্মকর্তা’ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়ী থাকবেন। ভোট গ্রহণের জন্য সাময়িকভাবে নিযুক্ত বিভিন্ন স্তরের সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্বশাসিত, আধাস্বায়ত্তশাসিত দফতর/প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারী/ব্যক্তি সকলেই নির্বাচন কর্মকর্তা। সুতরাং নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে অনীহা, অসহযোগিতা, শৈথিল্য, ভুল তথ্য প্রদান ইত্যাদির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন এবং তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা প্রদান সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ এবং ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’ এর অনুচ্ছেদ ৫ অনুসারে সরকারের নির্বাহী কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের কর্তব্য। এমতাবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কাজে অর্পিত দায়িত্ব আইন ও বিধি মোতাবেক নিরপেক্ষভাবে পালনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা প্রদানের জন্য সরকারের সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগকে তাদের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে অনুরোধ করা হলো।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক/শিক্ষিকাদের প্রতিও অনুরূপ নির্দেশনা জারি করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’ এর অনুচ্ছেদ ৪৪-ই অনুসারে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ১৫ দিন পার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি করা যাবে না। সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাসমূহকে নির্বাচনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীকে ছুটি প্রদান এবং অন্যত্র বদলি করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

উপরেল্লিখিত নির্দেশনা জারিসহ আনুষঙ্গিক কার্যাদি সম্পন্ন করে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্বশাসিত আধাস্বায়ত্বশাসিত/বেসরকারি দফতর/সংস্থা/প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা/শিক্ষক/কর্মচারীকে সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান সম্পর্কে সচেতন থেকে নির্বাচনী দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশনা দেয়া হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে।

Facebook Comments

About T. M. Golam Mostafa

Check Also

ইসলামের প্রচার-প্রসার ও উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান

আজকের শরীয়তপুুর ডেস্ক: ইসলামের প্রচার-প্রসারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *