উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকান নির্মাণ

আব্দুল বারেক ভূঁইয়া, শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ// শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার বাজার উত্তর মাথা সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদের খালের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুর রহমান শেখ এর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকান ঘর নির্মাণ করেছে, স্থানীয় হাজী আব্দুল হামেদ খান ও মোনায়েম খান নামে দুই ব্যাক্তি।
২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে শরীয়তপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ, ডোমসার বাজার সংলগ্ন কির্তিনশা নদী হতে পশ্চিম দিকে সারেংগা অভিমুখী একটি খালের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখার লক্ষ্যে পুন:খনন প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। উক্ত খালটি প্রায় হাফ কিলোমিটার খনণ কাজ অগ্রগতি হলে ডোমসার বাজার উত্তর মাথায় খালের মধ্যে অবৈধভাবে নির্মাণকৃত প্রায় ২৪ থেকে ২৫ টি স্থাপনা থাকার কারণে খাল খনণ কাজটি বাঁধার সম্মুখিন হয়। এমতাবস্থায় উক্ত ঠিকাদার প্রায় এক হাজার ফিট খাল খনণ কাজ বাদ রেখে, খাল খনণ প্রকল্পের কাজ শেষ করেন। অসম্পূর্ণ খাল খনণ কাজকে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রশাসন, ডোমসার ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বিষয় ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান থাকা অবস্থায়, হাজী মোঃ আব্দুল হামেদ খান, মোনায়েম খান নামে দুই ব্যক্তি স্থানীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সহযোগীতায়, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে চলমান আইনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে প্রায় এক মাস পূর্বে ডোমসার বাজার উত্তর মাথা সংলগ্ন খালের মধ্যে দোকান নির্মাণ কাজ শুরু করে। স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুর রহমান শেখ, ঘটনা স্থানে গিয়ে ডোমসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ চাঁন মিয়া মাদবর ও ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার আদেশ করেন এবং পরবর্তীতে যেন অবৈধ স্থাপনা করতে না পারে এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ চাঁন মিয়া মাদবর ও ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তাকে দেখা-শুনার দায়িত্ব অর্পন করেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় চোরে শুনে না ধর্মের কাহিনী, ভুমি দস্যু মানে না আইনের নীতি । রাতের আধাঁরে অবৈধভাবে উক্ত স্থানে দোকান ঘর নির্মাণ করে যা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। এ বিষয়ে ডোমসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ চাঁন মিয়া মাদবর গণমাধ্যমকে জানান কোয়ারপুর মৌজার ৪নং খতিয়ানে বি.আর.এস-৮৩৬৪ নং দাগের খালের মালিক ডোমসার ইউনিয়ন পরিষদ হওয়া স্বত্ত্বেও হাজী আব্দুল হামেদ খান ও মোনায়েম খান গং ব্যক্তিরা ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে দোকান ঘর নির্মাণ করেছে। ঐ সকল দোকানীদের ভাড়া বাবদ ইউনিয়ন পরিষদ ফান্ডে কোন অর্থ জমা হয় না। স্থানীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সহযোগীতায় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণকারী ব্যক্তিরা ইউনিয়ন পরিষদের সম্পত্তি ভোগ দখল করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুর রহমান শেখ গণমাধ্যমকে জানান, আমি উপজেলা কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবৈধ দখলদার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ মামলা রুজু করার জন্য আদেশ দিয়েছি। উচ্ছেদ মামলা রুজু হলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদের সম্পত্তিতে অবৈধ স্থপনা নির্মাণকারী হাজী মোঃ আব্দুল হামেদ খান ও মোনায়েম খানের সাথে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

Facebook Comments

About Sm Sohage

Check Also

সরকারি ঘর পেয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ২৪ পরিবারের মুখে আনন্দের হাসি!

আব্দুল বারেক ভূঁইয়া, শরীয়তপুর//  দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মান প্রকল্পের অধীনে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ১ম পর্যায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *